কুমিল্লায় অটোরিকশার নৈরাজ্য: লাগামহীন ভাড়া ও যানজটে জিম্মি নগরবাসী, সমাধান কি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট?
কুমিল্লায় অটোরিকশার নৈরাজ্য: লাগামহীন ভাড়া ও যানজটে জিম্মি নগরবাসী, সমাধান কি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট?
কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। স্বাভাবিক সময়ে যেকোনো যানবাহনে এই পথটুকু পাড়ি দিতে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়। অথচ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে এই সংক্ষিপ্ত দূরত্ব অতিক্রম করতেই এখন সময় লাগছে পৌনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। কেবল প্রধান সড়কগুলোই নয়, অলিগলির অবস্থাও যানজটে পুরোপুরি স্থবির।
লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধি: দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল যাতায়াত!
যানজটের সুতীব্র যন্ত্রণার সাথে এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে চালকদের মনগড়া ও অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি। অভিযোগ রয়েছে, পুরো বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে কুমিল্লা শহরেই যাতায়াত খরচ সবচেয়ে বেশি। কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দিন দিন ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে চলেছে অটোরিকশাচালকরা।
একসময় স্বল্প দূরত্বের যে ভাড়া ছিল ৫ টাকা বা ১০ টাকা, তা এখন অতীত। এমনকি ১৫ বা ২৫ টাকার দূরত্বেও এখন বাধ্য হয়ে গুণতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতিদিনের এই অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা।
নিরাপত্তাহীনতা ও নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন
ট্রাফিক বিভাগের আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুমিল্লা নগরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিশুক এবং ইজিবাইক চলাচল করছে। বিপুলসংখ্যক এই অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতির ধাক্কায় অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা না থাকায় এসব যান এখন নগরবাসীর জন্য বড় আতঙ্কের নাম।
গ্যারেজভিত্তিক ‘টোকেন’ প্রথা
শহরের রাস্তায় চলাচলকারী অটোরিকশার গায়ে বিশেষ সাংকেতিক নম্বর দেখা যায়। চালকদের দাবি, গ্যারেজ মালিকদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘মাসিক ফি’ দিয়ে এই সংকেত নেওয়া হয়, যা থাকলে ঝামেলা ছাড়া চলাচল করা যায়। তবে ট্রাফিক বিভাগ এই টোকেন বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
স্থায়ী সমাধান: অটোরিকশা বন্ধ ও ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট’ চালু
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাত হাজার অটোরিকশা নিবন্ধনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা এই বিশাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন সচেতন নগরবাসী। কেবল অনুমোদন দিয়ে কিংবা অটোরিকশা সংখ্যা সীমিত করে এই নৈরাজ্য থামানো সম্ভব নয়।
কুমিল্লাকে একটি সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য শহর করতে হলে প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তুলে দিয়ে সুনির্দিষ্ট ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট’ বা সিটি বাস সার্ভিস চালু করা এখন সময়ের দাবি। বাস সার্ভিস চালু হলে যাতায়াত খরচ একলাফে কমে আসবে, নির্ধারিত ভাড়ায় মানুষ যাতায়াত করতে পারবে এবং শহরের যানজটও অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
দেশমাতৃ
দেশ মাতৃ