নেশাখোর সাহাবীর প্রতি রাসূল (সাঃ)-এর ভালোবাসা ও আমাদের শিক্ষা
মদিনায় একজন সাহাবী ছিলেন, যার নাম ছিল আব্দুল্লাহ এবং সবাই মজা করে তাকে "হিমার" (গাধা) বলে ডাকতো। তিনি প্রায়ই মদ পান করতেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে প্রায়ই রাসূল (সাঃ)-এর দরবারে হাজির করা হতো। রাসূল (সাঃ) শরিয়ত অনুযায়ী তাকে শাস্তি দিতেন, তিনি চলে যেতেন, কিন্তু আবার কিছুদিন পর একই কাজ করতেন।
একদিন আবারও তাকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাসূল (সাঃ)-এর সামনে আনা হলো। তখন হযরত ওমর (রাঃ) রাগান্বিত হয়ে বলে উঠলেন: "আল্লাহর লানত পড়ুক এর উপর! কতবার তাকে এখানে আনা হয়!"
হযরত ওমর (রাঃ)-এর এই কথা শুনে রাসূল (সাঃ)-এর চেহারা মুবারক রাগে লাল হয়ে গেল। তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বললেন:
"ওমর, ওকে অভিশাপ দিও না। আল্লাহর কসম, আমি জানি, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।"
— (সহীহ বুখারী - ৬৭৮০)
এ থেকে আমাদের শিক্ষা:
সাধারণত আমরা মানুষের বাহ্যিক ভুলত্রুটি ও অপরাধগুলোই দেখি, কিন্তু রাসূল (সাঃ) মানুষের ভেতরের ভালোত্ব, তওবা করার মানসিকতা এবং আল্লাহর প্রতি তাদের গোপন ভালোবাসার দিকটি লক্ষ্য করতেন। কেউ বারবার ভুল করলেও তাকে অভিশাপ না দিয়ে বরং তার হেদায়েতের জন্য দোয়া করা উচিত।
রাসূল (সাঃ) আরও ইরশাদ করেছেন:
“মুমিন কখনো অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও গালমন্দকারী হতে পারে না।”
— (তিরমিজি, ১৯৭৭)
কোনো মানুষ গোনাহে লিপ্ত হলে আমরা তাকে মুহূর্তেই খারাপ বা গুনাহগার হিসেবে লেবেল লাগিয়ে দিই, অথচ তার অন্তরের ভেতরের অবস্থা বা আল্লাহর সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না! এমনও হতে পারে, আল্লাহর দরবারে ওই বান্দার মর্যাদা আমাদের অনেকের চেয়ে অনেক উঁচুতে।
তাই কাউকে চূড়ান্তভাবে বদকার বা নেককার হিসেবে রায় দেওয়া আমাদের কাজ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমিন!
দেশ মাতৃ