মাকড়সা নাকি মৌমাছি: আপনার পরিবার ও জীবনটা কোন পথে চলছে?

নাসিহত প্রকাশিত October 19, 2026

​আমাদের পরিবার এবং ভবিষ্যৎ সন্তানরা কেমন হবে, তা বোঝার জন্য প্রকৃতির দুটো খুব পরিচিত প্রাণীর দিকে তাকানো যায়—একটি হলো মাকড়সা, অন্যটি মৌমাছি।

​উপরে থেকে দেখলে দুটোই ছোট্ট প্রাণী এবং দুজনেই চমৎকার বাসা বানায়। কিন্তু এদের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা এবং এদের বাসা থেকে কী তৈরি হয়—তা সম্পূর্ণ আলাদা। এই দুই প্রাণীর জীবন থেকেই আমরা আমাদের নিজেদের সংসার ও পরিবারকে চমৎকারভাবে মূল্যায়ন করতে পারি।

​১. মাকড়সার জীবন: শুধু নিজের স্বার্থ ও ফাঁদ তৈরি

​মাকড়সা যখন একটি বাসা বা জাল বানায়, সেটা কিন্তু কোনো সুন্দর বা থাকার জায়গা হিসেবে বানায় না। সে মূলত একটি ফাঁদ তৈরি করে।

  • ​সে চুপচাপ বাসার এক কোণে বসে থাকে এবং অপেক্ষা করে কখন কোনো অসহায় পোকা এসে তার জালে আটকাবে।
  • ​শিকার এলেই সে তাকে গিলে খায়।
  • ​তাদের এই স্বভাবের কারণে মাকড়সার ঘর বা বাসায় সত্যিকারের কোনো ভালোবাসা বা স্থায়ী নিরাপত্তা থাকে না। বিপদ হলে বা খিদে পেলে এরা নিজের আপনজনকেও ছাড় দেয় না।

​আমাদের জীবনের শিক্ষা:

আমাদের কোনো কোনো ঘর বা পরিবারও মাকড়সার বাসার মতো হয়ে যায়। যেখানে একে অপরের প্রতি মায়া-মমতা থাকে না, কেবল স্বার্থ থাকে। ঘরের ভেতর যদি বিশ্বাস, ভালোবাসা আর মজবুত বন্ধন না থাকে—তবে সেই পরিবার থেকে কখনো ভালো কিছু তৈরি হয় না। সেখান থেকে কেবল একলা থাকা এবং হিংসা-বিদ্বেষী মনোভাবই জন্ম নেয়।

​২. মৌমাছির জীবন: কল্যাণ, সততা ও সুন্দর পরিবেশ

​এবার একটু মৌমাছির দিকে তাকাই। মৌমাছি কখনো কারো ক্ষতি করার জন্য বা কাউকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসা বানায় না।

  • ​মৌমাছি উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে যায়, সুন্দর সুন্দর ফুল ও ফল থেকে পবিত্র রস সংগ্রহ করে আনে।
  • ​এরা একা একা কাজ করে না, দল বেঁধে খুব সুশৃঙ্খলভাবে শান্তিতে বসবাস করে।
  • ​সবচেয়ে বড় কথা, তারা তাদের বাসায় যা তৈরি করে, সেটা হলো মধু। এই মধু অত্যন্ত সুস্বাদু এবং মানুষের নানা রোগের মহৌষধ বা প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

​আমাদের ধর্মে ও নীতিবিদ্যায় ভালো মানুষকে মৌমাছির সাথে তুলনা করা হয়েছে। কারণ মৌমাছি নিজে ভালো কিছু খায় এবং সমাজকে সবচেয়ে সুন্দর ও উপকারি জিনিস উপহার দেয়।

​৩. একটু ভেবে দেখুন: আপনার ঘর থেকে কী তৈরি হচ্ছে?

​আজকে আমাদের নিজেদের ঘরের দিকে একবার তাকানো উচিত। আমাদের পরিবারটা ভেতর থেকে কতটা শক্ত?

  • ​আমরা আমাদের সন্তানদের কেমন করে বড় করছি?
  • ​আমাদের সন্তানরা কি বাইরের দুনিয়ায় গিয়ে সবার উপকার করছে, মিষ্টি মধুর মতো ভালোবাসা ছড়াচ্ছে?
  • ​নাকি তারা একা একা থাকতে পছন্দ করছে, স্বার্থপর হচ্ছে এবং একে অপরের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ছে?

​আমাদের সংসার বা ঘরটা কেবল ইটের দেয়াল দিয়ে সুন্দর বানালেই হবে না, ঘরের ভেতরের মানুষগুলোর সম্পর্ককে শক্ত করতে হবে।

​মূল কথা বা আসল বার্তা

​যদি একটা পরিবার মাকড়সার মতো স্বার্থপর আর একলা হয়, তবে সেখানে দিনশেষে কোনো শান্তি থাকে না। আর পরিবারটি যদি মৌমাছির মতো শৃঙ্খলা, ভালোবাসা আর সততায় ভরা হয়, তবে সেখান থেকে সুন্দর সন্তান এবং একটি সুন্দর সমাজ তৈরি হয়।

​আসুন, আমরা সবাই আমাদের ঘরকে মাকড়সার ফাঁদ না বানিয়ে, মৌমাছির চাকের মতো কল্যাণকর ও ভালোবাসাময় একটি পরিবারে পরিণত করি।

নাসিহত এ আরও

আল্লাহকে পাওয়া সবচেয়ে বড়ো মূল্য

আল্লাহকে হারিয়ে, আখিরাত হারিয়ে — গোটা পৃথিবী অর্জন করলেও, ওয়াল্লাহি, আপনি নিঃস্ব...! ​আর আল্লাহকে পেয়ে, যদি চাটাইয়ের বিছানাতেও ঘুমান, তবে ওয়াল্লাহি — …

আল্লাহ যা দান করেন তা–ই বেশি কল্যাণকর

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা! 🌸​কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আমরা আমাদের জীবনে যা চাই, তার চেয়ে আল্লাহ আমাদের যা দান করেন—সেটি কি অনেক বেশি কল্যাণকর নয়…

গীবতের ভয়াবহ পরিণতি: হাশরের ময়দানে যার আমলনামা থাকবে শূন্য

​হাশরের ময়দানে বান্দাকে যখন উপস্থিত করা হবে এবং তার হাতে তার আমলনামা দেওয়া হবে, সে দেখবে সেখানে তার নামাজ, রোজা কিছুই লেখা নেই। কোনো নেক কাজই আমলনামায় দেখতে …

জীবনের আসল পরীক্ষাটা এখনো বাকি!

পিএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থী একসময় বুঝতে পারে, এই ফলাফলই জীবনের সবকিছু নয়। সামনে আরও অনেক পথ বাকি। জেএসসিতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ভাবে, এবার এসএস…