অমুসলিমদের পূজা-পার্বণ ও একজন মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব

নাসিহত প্রকাশিত October 18, 2026

পূজা-পার্বণ উপলক্ষে একজন মুমিনের বর্জনীয় কাজসমূহ

১. মন থেকে আনন্দ প্রকাশ না করা: অমুসলিমদের পূজা-পার্বণে বা ধর্মীয় উৎসবে একজন মুমিন মানসিকভাবে আনন্দিত হতে পারে না।
২. শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন না জানানো: চিঠি, বার্তা, কার্ড বা সামাজিক মাধ্যমে শুভকামনা (উইশ) জানিয়ে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আনন্দিত করা জায়েজ নয়।
৩. সমর্থন ও সহযোগিতা না করা: এসব অনুষ্ঠান উদযাপনে কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ও সহযোগিতা করা যাবে না।
৪. অর্থ বা পণ্য দান না করা: পূজার কাজে এক টাকা দান করাও গোনাহ। তবে পূজা ব্যতীত অমুসলিমদের সাধারণ আর্তমানবতার সেবায় সাহায্য-সহযোগিতা করায় কোনো বাধা নেই।
৫. পূজাসংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র কেনাবেচা না করা: শুধুমাত্র পূজার কাজে ব্যবহৃত হয় এমন জিনিসপত্রের জোগান দেওয়া বা বিক্রি করা যাবে না (যেমন: পূজা উপলক্ষে আতশবাজি বিক্রি ইত্যাদি)।
৬. প্রতিমা তৈরি ও বিক্রি না করা: দেব-দেবীর মূর্তি বা প্রতিমা তৈরি, সংস্কার বা বিক্রি করার কাজে অংশ নেওয়া যাবে না।
৭. মণ্ডপ তৈরি বা ডেকোরেশন না করা: পূজামণ্ডপ নির্মাণ, আলোকসজ্জা বা ডেকোরেশনের কাজ করা এবং এতে শ্রমিক হিসেবে শ্রম দেওয়া যাবে না।
৮-৯. উপস্থিত থাকা ও উপভোগ করা থেকে বিরত থাকা: পূজার মেলা বা অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য সেখানে যাওয়া কিংবা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যাবে না।
১০. সংস্কৃতির অনুকরণ না করা: পূজার ধর্মীয় আচার বা সংস্কৃতির অনুকরণে নিজেরা কোনো কাজ করা যাবে না। যেমন: পটকা ফুটানো, আতশবাজি করা, রং ছিটানো, কিংবা পূজা উপলক্ষে বিশেষ নতুন জামাকাপড় পরা ইত্যাদি।
১১. ধর্মীয় নিমন্ত্রণ গ্রহণ না করা: পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক কোনো দাওয়াত বা নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না।
১২. তাদের জবেহ করা পশু না খাওয়া: অমুসলিমদের পূজার উদ্দেশ্যে বা দেব-দেবীর নামে জবেহ করা কোনো প্রাণীর গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।
১৩. পূজার খাদ্যদ্রব্য পরিহার করা: হাত দিয়ে তৈরি পিঠা-পায়েস ও অন্যান্য জিনিস সরাসরি হারাম না হলেও, যেহেতু এগুলো দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে বা পূজার শুভাকাঙ্ক্ষায় তৈরি করা হয়, তাই ঈমানী আত্মমর্যাদার স্বার্থে তা পরিহার করা আবশ্যক।
১৪. বিশেষ ছাড় বা অফার না দেওয়া: মুসলিম ব্যবসায়ীরা পূজা উপলক্ষে বিশেষ মূল্যছাড় বা ‘পূজা অফার’ ঘোষণা করতে পারবেন না। বরং ইসলামের দাওয়াত ও সৌন্দর্যের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করতে ঈদ, রমজান বা সাধারণ সময়ে এসব অফার দেওয়া যেতে পারে।
১৫. আনুষঙ্গিক কাজে সাহায্য না করা: কোনো মুসলিম কর্মচারী তার অমুসলিম মালিকের পূজাসংশ্লিষ্ট কাজে সামান্যতম সাহায্যও করতে পারবেন না (যেমন: পূজার ফুল-পানি এগিয়ে দেওয়া, প্রদীপ বা ধূপ জ্বালানো ইত্যাদি)।

ঈমানী দৃষ্টিভঙ্গি ও আমাদের অবস্থান

উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোনোটির মাধ্যমে মানুষের ঈমান বিনষ্ট হয়ে মুশরিক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, আর কোনটি হারাম ও কবীরা গোনাহ। আবার কোনটি মাকরূহ ও নিন্দনীয়। আত্মমর্যাদাবান কোনো মুমিন এসব কাজের সাথে জড়িত হতে পারে না। একজন মুমিনের অন্তরে এসব কুফরী ও শিরকী কর্মকাণ্ডের প্রতি থাকবে ধর্মীয় অসন্তোষ ও ঘৃণা।

তবে অমুসলিমদের প্রতি থাকবে দায়ীসুলভ (দাওয়াতদাতার) সহানুভূতি ও দরদ, যা তাদেরকে শিরকমুক্ত করে তাওহীদের পথে ডাকার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

এ ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ হলো হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাহ। তিনি একদিকে প্রতিমাপূজা ও কুফরী কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন এবং স্পষ্ট ভাষায় নিজের ধর্মীয় অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিলেন; অন্যদিকে তাদেরকে তাওহীদের বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল থেকে নানা প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এর সুনির্দিষ্ট নীতি ঘোষণা করে বলেন:

لَاۤ اِکۡرَاہَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ فَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالطَّاغُوۡتِ وَ یُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ فَقَدِ اسۡتَمۡسَکَ بِالۡعُرۡوَۃِ الۡوُثۡقٰی ٭ لَا انۡفِصَامَ لَہَا ؕ وَ اللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ

“দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই; সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। অতএব, যে তাগূতকে (আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্য) অস্বীকার করবে ও আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, সে এমন এক দৃঢ় রজ্জু ধারণ করল যা কখনো বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”
— (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৬)

সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষা



নাসিহত এ আরও

আল্লাহকে পাওয়া সবচেয়ে বড়ো মূল্য

আল্লাহকে হারিয়ে, আখিরাত হারিয়ে — গোটা পৃথিবী অর্জন করলেও, ওয়াল্লাহি, আপনি নিঃস্ব...! ​আর আল্লাহকে পেয়ে, যদি চাটাইয়ের বিছানাতেও ঘুমান, তবে ওয়াল্লাহি — …

আল্লাহ যা দান করেন তা–ই বেশি কল্যাণকর

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা! 🌸​কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আমরা আমাদের জীবনে যা চাই, তার চেয়ে আল্লাহ আমাদের যা দান করেন—সেটি কি অনেক বেশি কল্যাণকর নয়…

গীবতের ভয়াবহ পরিণতি: হাশরের ময়দানে যার আমলনামা থাকবে শূন্য

​হাশরের ময়দানে বান্দাকে যখন উপস্থিত করা হবে এবং তার হাতে তার আমলনামা দেওয়া হবে, সে দেখবে সেখানে তার নামাজ, রোজা কিছুই লেখা নেই। কোনো নেক কাজই আমলনামায় দেখতে …

জীবনের আসল পরীক্ষাটা এখনো বাকি!

পিএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থী একসময় বুঝতে পারে, এই ফলাফলই জীবনের সবকিছু নয়। সামনে আরও অনেক পথ বাকি। জেএসসিতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ভাবে, এবার এসএস…